একটি বাদাম এবং একটি উঁচু ঘণ্টা টাওয়ারের গল্প। লিখেছেন গল্পটি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (Leonardo da Vinci) (১৪৫২–১৫১৯)। (The nut and the campanile).
ছবিসূত্র: চ্যাট জিপিটি এআই দিয়ে তৈরি।
একদিন একটি দাঁড়কাক ঠোঁটে করে একটি বাদাম নিয়ে উড়ে গিয়ে বসল একটি উঁচু বড় আকারের ঘণ্টাঘরের চূড়ায়। হঠাৎ বাদামটি ঠোঁট থেকে পড়ে গিয়ে দেয়ালের একটি সরু ফাটলে আটকে গেল। আর এতেই বেঁচে গেল বাদামটির জীবন। কারণ, দাঁড়কাকের ঠোঁটে পড়ার পর তার যে ভয়ংকর পরিণতি হতে পারত, আপাতত সেটা থেকে রেহাই পেয়েছে।
বাদামটি তখন দেয়ালের কাছে আশ্রয় চাইল। আল্লাহর দোহাই দিয়ে সাহায্য চাইল। দেয়ালের বিশাল উচ্চতা, সৌন্দর্য আর তার ঘণ্টাগুলোর সুমধুর ধ্বনির প্রশংসা করে সে মিনতি জানাল,
“হে মহান দেয়াল, দয়া করে আমাকে একটু আশ্রয় দাও। হায়! আমার বৃদ্ধ পিতার সবুজ পাতা ঘেরা ডাল থেকে ঝরে পড়ি, তার ঝরা পাতার বিছানায় উর্বর মাটিতে আমার ঠাঁই নেওয়ার সৌভাগ্য হলো না। অন্তত তুমিও আমাকে পরিত্যাগ করো না।
“নিষ্ঠুর দাঁড়কাকের ঠোঁটে বন্দি হওয়ার সময় আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যদি কোনভাবে তার কবল থেকে মুক্তি পাই, তবে একটি ছোট্ট গর্তে বাকি জীবন কাটিয়ে দিব। এখন তোমার দেয়ালের এই ফাটলে আশ্রয় পেয়েছি। দয়া করে আমাকে এখানেই থাকতে দাও।”
বাদামের আকুল মিনতি শুনে দেয়ালটির মনে দয়া হলো। সে ভাবল, অসহায় এই প্রাণীকে একটু আশ্রয় দিলে ক্ষতি কী! তাই যে ফাটলে বাদামটি এসে পড়েছিল, সেখানেই তাকে আশ্রয় দিল।
কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ঘটল বিপত্তি।
বাদামটির খোলস ফেটে শিকড় বেরিয়ে এল। শিকড়গুলো ধীরে ধীরে পাথরের ফাটলের গভীরে প্রবেশ করতে লাগল। তারপর সেগুলো পাথরের গায়ে চাপ দিতে দিতে ফাটলগুলো আরও চওড়া করে তুলল। অন্যদিকে, বাদামের চারা মাটি ফুঁড়ে আকাশের দিকে মাথা তুলতে শুরু করল।
দিন যেতে লাগল। চারাটি ক্রমেই বড় গাছ হতে থাকল। একসময় তার ডালপালা ঘণ্টাঘরের চূড়াকেও ছাড়িয়ে গেল। আর মাটির গভীরে ও পাথরের ফাঁকে ছড়িয়ে পড়া শিকড়গুলো ক্রমশ মোটা হতে লাগল। সেগুলোর প্রবল চাপে দেয়ালের পাথরগুলো একে একে নিজেদের জায়গা থেকে সরে যেতে শুরু করল।
ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
যে দেয়াল একদিন করুণা করে বাদামটিকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই দেয়ালই এবার নিজের ধ্বংসের কারণ বুঝতে পারল। কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না। অসহায়ভাবে নিজের পরিণতির জন্য বিলাপ করতে করতে একসময় দেয়ালটি ভেঙে পড়ল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো এককালের সেই প্রাচীন ঘণ্টাঘর।
তথ্যসূত্র: Greene, Robert. The concise The 48 Laws of Power. Viking, 2002. Law 10, page 38.


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন