হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি ঘোষণার পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump পরিকল্পনাটি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঘোষণা দেন—যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামের এই অভিযানে থাকবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন। কিন্তু এত শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি ঠিক কীভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালী পার করাবে—সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।
অস্ট্রেলিয়ার লোয়ি ইনস্টিটিউটের গবেষক ও সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা জেনিফার পার্কার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত সরাসরি পাহারা দেওয়ার বদলে পুরো পরিবেশটাই বদলে দিতে চাইছে—যাতে জাহাজগুলো নিজ থেকেই নিরাপদ অনুভব করে।
তার মতে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রণালীতে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হতে পারে, পাশাপাশি আকাশে নজরদারি জোরদার করা হবে। এসব বিমান সন্দেহজনক ছোট নৌযান বা সম্ভাব্য হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারবে।
তবে প্রচলিত অর্থে যুদ্ধজাহাজ দিয়ে কনভয় বানিয়ে জাহাজগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করেন তিনি। বরং প্রণালীতে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
এর কারণও পরিষ্কার—এই কার্যক্রম থামাতে গেলে ইরানকে সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে, যা এখন পর্যন্ত তারা এড়িয়ে এসেছে।
পার্কারের ভাষায়, “একভাবে দেখলে ট্রাম্প ইরানকে চাপের মুখে ফেলছেন। পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে তাদের সরাসরি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে হবে—যা সংঘাতকে একেবারে অন্য স্তরে নিয়ে যাবে।”
ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোন হস্তক্ষেপ ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগর ট্রাম্পের অবাস্তব পোস্ট দিয়ে পরিচালিত হবে না।”
এদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের খাতাম আল-আম্বিয়া (Khatam al-Anbiya Central Headquarters) এর পক্ষ থেকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে—কোন বিদেশি বাহিনী, বিশেষ করে মার্কিন সেনারা যদি প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছেন—ইরানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের “হস্তক্ষেপ” হলে তার জবাব দেওয়া হবে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে পরিকল্পনার চেয়ে অনিশ্চয়তাই যেন বেশি দৃশ্যমান।
তথ্যসূত্র: https://edition.cnn.com/2026/05/04/middleeast/project-freedom-hormuz-guide-ships-intl-hnk-ml