Post Page Advertisement [Top]

ছবিসূত্র: চ্যাট জিপিটি এআই দিয়ে তৈরি।

হারকিউলিসের অসাধারণ কীর্তিগুলো ছিল তাঁর দুঃসাহসিক অভিযানেরই ফল। উপকথা কিংবা ইতিহাসে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল—এমন প্রমাণ খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবু একটি ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে। একবার এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী তার এক সঙ্গীকে নিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়লেন। তারা চলে গেলন দূর এক দেশে।

অনেক দূর যাওয়ার পর তার সঙ্গীর চোখে পড়ল একটি খুঁটি। খুঁটিতে লেখা ছিল—

“হে সাহসী অভিযাত্রী! আপনি যদি এমন কিছু আবিষ্কার করতে চান, যা এর আগে কোন অভিযাত্রী কখনো দেখেনি, তাহলে আপনাকে শুধু এই প্রবল স্রোতের নদী পার হতে হবে। এরপর একটি পাথরের হাতিকে দুই হাতে তুলে এক নিঃশ্বাসে এই পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যেতে হবে। পাহাড়টির সুউচ্চ চূড়া যেন আকাশের সঙ্গে মিশে গেছে।”

লেখাটি পড়ে অভিযাত্রীর সঙ্গী বলল, “কিন্তু নদীর স্রোত যেমন প্রবল হতে পারে, তেমনি এর গভীরতাও বেশি হতে পারে। ধরুন, কোনভাবে আমরা নদীটি পার হলাম। কিন্তু তারপর এই হাতিকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার কী দরকার? কী হাস্যকর একটা কাজ!”

এরপর সে বেশ যুক্তি দেখিয়ে এবং হিসাব-নিকাশ করে বলতে লাগল, “হাতিটিকে বড়জোর চার পা পর্যন্ত বহন করা যেতে পারে। কিন্তু এক নিঃশ্বাসে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে হাতিটি যদি খেলনার মতো ছোট হয়, যা শুধু একটি লাঠির মাথায় বসিয়ে রাখা যায়, তাহলে হয়তো সম্ভব। কিন্তু তাতে আর কিসের গৌরব? এমন অভিযানে কী সম্মান পাওয়া যাবে?”

সে আরও বলল, “এই লেখার মধ্যে নিশ্চয়ই কোন ধোঁকা আছে। এটি আসলে এমন একটি ধাঁধা, যা দিয়ে শিশুদের মনোরঞ্জন করা যায়। তাই আমি তোমাকে এবং তোমার হাতিকে এখানেই ছেড়ে যাচ্ছি।”

এ কথা বলে যুক্তিবাদী সঙ্গীটি চলে গেল।

কিন্তু দুঃসাহসী অভিযাত্রী কোনকিছু না ভেবেই চোখ বন্ধ করে নদীর স্রোতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। নদীর গভীরতা কিংবা প্রবল স্রোত—কোনটিই তাকে থামাতে পারল না। অপর পারে পৌঁছে তিনি দেখলেন, খুঁটির লেখায় যেমন বলা হয়েছিল, ঠিক তেমনই একটি হাতি সেখানে পড়ে আছে।

তিনি হাতিটিকে তুলে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। সেখানে একটি শহর দেখতে পেলেন। হঠাৎ হাতিটির ভিতর থেকে এক ধরনের চিৎকারের শব্দ বের হয়ে এল। এতে করে শহরের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে এল। কিন্তু অভিযাত্রী বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। তিনি মনে মনে স্থির করলেন, প্রয়োজনে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করবেন।

তবে শহরের মানুষ তার উপস্থিতিতে এতটাই অভিভূত হলো যে, তারা তাকে তাদের সদ্য প্রয়াত রাজার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করল। এ ঘটনা শুনে অভিযাত্রী নিজেও বিস্মিত হয়ে গেলেন।

উপকথা: জ্যঁ দ্য লা ফঁতেন (১৬২১–১৬৯৫) (Fables, Jean De La Fontaine, 1621-1695),


তথ্যসূত্র: Greene, Robert. The 48 Laws of Power. Profile Books Ltd, 1998. Law 28, page 228.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Bottom Ad [Post Page]