শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ব্যক্তিগত উন্নয়ন – সপ্তম অধ্যায়

সংগঠিত পরিকল্পনা

ব্যক্তিগত উন্নয়ন, জীবনে সাফল্য অর্জন বা অন্য যে কোন ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে হলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিকল্পনা, আর এই পরিকল্পনাকে বাস্তব করতে হলে একে হতে হবে সংগঠিত। একটি সংগঠিত পরিকল্পনা তৈরী করতে আপনি যে কাজ করবেন তা সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য ও সম্ভাবনাকে জানুন, প্রতিটি সুযোগ ও ঝুঁকি লিখে রাখুন যে আপনি কোনটি গ্রহণ করবেন এবং কোনটি এড়িয়ে যাবেন।

পরিকল্পনাকে বাস্তবে গ্রহণযোগ্য করতে এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন। নির্দেশনাগুলো বুঝতে মনোযোগী হন, যদি আপনি সাফল্য অর্জন করতে চান। এগুলো হচ্ছেঃ-

(ক) একটি দল গঠন করুন, আপনার যতজন লোক দরকার তাদের নিয়ে। আপনার পরিকল্পনাকে পূরণ করতে কর্তৃত্বশীল মন এর দল তৈরী করুন, দলগতভাবে কাজ করুন। (কর্তৃত্বশীল মন সম্পর্কে পরবর্তী লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।)

(খ) আপনার কর্তৃত্বশীল মন এর দল গঠন এর পূর্বে চিন্তা করে নিন যে দলের প্রত্যেক সদস্যকে আপনি তাদের শ্রমের বিনিময়ে কি দিবেন।

(গ) কর্তৃত্বশীল মন এর সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। কমপক্ষে সপ্তাহে দুই বার সাক্ষাৎ করুন এবং তাদের সাথে প্রতি সাক্ষাতে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।

(ঘ) আপনার কর্তৃত্বশীল মন এর দলের সদস্যদের মধ্যে সমতান বজায় রাখুন। একে অপরের সাথে সমতান অর্থাৎ সম্পর্কের সহজবোধ্যতা, সমসুর বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃত্বশীল মন এর দলের সদস্যদের মধ্যে সমতান বজায় রাখতে পারার সক্ষমতা নির্ধারণ করবে আপনার পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা।

আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে যে আপনার পরিকল্পনাটি হতে হবে নিখুঁত, ভুলহীন। আপনার পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে আপনার সফলতা। আপনার কর্তৃত্বশীল মন এর দলের সদস্যদের সাথে সমতান বজায় রাখুন। আপনার পরিকল্পনায় তাদের সহযোগিতা নিন। দলের অন্যান্য সদস্যদের জ্ঞান, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, কল্পনার  সামর্থ্যের সুবিধা নিন।

কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তির পক্ষে মহান সাফল্য অর্জন সম্ভব নয় যদি তিনি অপর ব্যক্তিদের সহায়তা না নেন। পৃথিবীর সফল ব্যক্তিগণ সকলেই সাফল্য অর্জন করেছেন তাদের কর্তৃত্বশীল মন এর দলের সদস্যদের দ্বারা। আপনিও এই সুযোগ নিন এবং নিজেকে করে তুলুন মহান সাফল্যের অধিকারী।

আপনার ইচ্ছা আছে নিজ জীবনে সফল হওয়ার তাই চিন্তা করুন, ইচ্ছাকে বজায় রাখুন, পরিকল্পনা সংগঠিত করুন এবং পরিকল্পনাকে অধ্যবসায়ের সাথে অনুসরণ করুন। আপনি সফল হবেন। প্রথম পরিকল্পনা যদি ব্যর্থ হয় তবে বুঝবেন যে ইহা সাময়িক বাঁধা, আপনার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে আপনি ব্যর্থ নন, আবার নতুন পরিকল্পনা সৃষ্টি করুন। বেশীরভাগ মানুষ যারা নতুন পরিকল্পনা সৃষ্টি করতে পারে না, ব্যর্থতার পর তারা জীবনে কখনও সফলতার সম্মুখীন হয় না।

কোন ব্যক্তিই কোন কাজে কখনও হেরে যায় না, যতক্ষণ না সে তার নিজ মনে কাজটি ত্যাগ করে। এই ব্যক্যটি ভালো করে খেয়াল করুন। মানুষ কখনও হেরে যায় না, যদি সে পরাজিত হয় তবে তার সূচনা হয় তার চিন্তা থেকে, মন থেকে। ব্যক্তির মন কাজটি ত্যাগ করে।

অনুপ্রেরণা নিন এবং আপন মনে বলুন আমি পারবো। নিজ মনকে জয়ের প্রতি আসক্ত করুন। আপনার ব্যক্তিগত সেবাগুলোকে কাজে লাগান, সম্ভাব্য সকল পথে। আপনার অভ্যন্তরের সম্পদকে চিনুন, বুঝুন এবং এদেরকে ঠিকভাবে কাজে লাগান এবং আপন পেশায় নেতৃত্ব দিন।

নেতৃত্ব আপনার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের চূড়ায় আপনাকে পৌছে দিবে। পৃথিবীর সকল সফল ব্যক্তিই ছিলেন তাদের নিজ নিজ পেশায় নেতা, তারা তাদের পেশাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নিজেকে নিয়ে গেছেন সুমহান উচ্চাতায়। প্রথম ধাপেই সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি আপনার পেশায় একজন নেতা হতে চান নাকি অনুসারী হিসেবেই থাকতে চান। এদের মধ্যে বিনিময় মূল্য খুবই বিশাল। একজন নেতা যে বিনিময় মূল্য পাওয়ার অধিকারী তা যৌক্তিক ভাবে একজন অনুসারী আশা করতে পারেন না।


একজন অনুসারী হওয়া অসম্মান জনক নয়। অপরপক্ষে ইহাতে কোন খ্যাতিও নেই। বেশির ভাগ মহান নেতারা শুরু করেছেন অনুসারী থেকেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, যে ব্যক্তি একজন নেতাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে অনুসরণ করতে পারে না সে কখনও দক্ষ নেতা হয়ে উঠতে পারে না। একজন বুদ্ধিমান অনুসারী নেতার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করে নেতৃত্বের গুণাবলী গঠন করে এবং একজন যোগ্য ও দক্ষ নেতা হয়ে ওঠে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন